বিমানবন্দরে আটক জামায়াত নেতার ব্যাগে মিললো ৭৪ লাখ টাকা: পুলিশ

Published February 12, 2026 by admin

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছে ৭৪ লাখ টাকা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভোটের আগের দিন বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে টাকাসহ তাকে আটক করা হয়।

সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, ‘সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৭৪ লাখ টাকা। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী তাকে বিমানবন্দরে আটক রেখে থানায় খবর দেয়।’

এর আগে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি বলেছেন যে তাঁর কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকার বেশি। পুলিশ এখনও গুনে দেখেনি। সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো গোনা হবে।

পুলিশ জানায়, পরে টাকা গুনে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান। তার ব্যাগে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা আছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যে তাকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরে তার সঙ্গে ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নান। তবে তাকে আটক করা হয়নি।

বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে ‘অর্ধকোটি’ টাকাসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি জানান, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের হাজীপাড়ায়। তিনি শিক্ষকতা করেন।

ব্যাগে কত টাকা আছে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এখানে ৫০-৬০ লাখ, ৫০ লাখ প্লাস টাকা আছে।’ কীসের টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসার, গার্মেন্টসের।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন প্রধান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, তার (বেলাল উদ্দিন) বুকে ব্যথা হচ্ছিল। তখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনি পরিবেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।