বিরোধী দলের ওয়াকআউট, ‘মূলতবি প্রস্তাবের নোটিশটি বিধি সম্মত ছিলো না’

Published April 1, 2026 by admin

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান ইস্যুতে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দলীয় সদস্যরা। এ সময় স্পিকার তাদেরকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানানো হলেও তারা তা আমলে নেয়নি। এ সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিরোধী দল যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়েছেন, সে বিষয়ে আনীত মূলতবি প্রস্তাবের নোটিশটি বিধি সম্মত ছিলো না। ফলে এখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই।

বুধবার (১ মার্চ) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ কথা বলার জন্য ফ্লোর নেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) যে এজেন্ডাটা আমরা উত্থাপন করেছিলাম এটা ছিল মূলতঃ গণভোট ও গণভোটের রায়ের আলোকে সংস্কারের প্রস্তাব। এজন্য যে পরিষদটা গঠন হওয়ার কথা সেই পরিষদের সভা আহ্বান সংক্রান্ত। এটাই ছিল মূল নোটিশের বিষয়। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবে আমি রেসপন্স দিতে গিয়ে বলেছিলাম যে যেহেতু আলোচনাটা হয়েছে সংস্কার পরিষদের ওপর, যদি এইটাকে কেন্দ্র করে কোন কমিটি বিশেষ কমিটি গঠন হয় তাহলে আমরা ইতিবাচকভাবে সেটা ভেবে দেখবো। এবং একই সাথে বলেছিলাম যে সেখানে সরকারি দল এবং বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিলে এটা অর্থবহ একটা কমিটি হিসেবে রূপ নেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং পরিষদ গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে এবং সংকট নিরসনে এই কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতো। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

জবাবে স্পিকার জানান, বিরোধী দলের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার নজির খুব কম থাকলেও বর্তমান অধিবেশনে আলোচনার স্বার্থে তা গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনার অবারিত সুযোগ রয়েছে এবং আগামীতেও এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।

তবে স্পিকারের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধী দল। বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন, তাদের মূল নোটিশকে ধামাচাপা দিতে অন্য একটি নোটিশ সামনে আনা হয়েছে। তিনি একে ‘জনগণের রায়ের অবমূল্যায়ন’ এবং ‘সংসদীয় রীতির লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। বলেন, ‘প্রতিকার চেয়েছিলাম। এ বিষয়টা কোনও দলের সাথে সম্পর্কিত না। যে বিষয়টা নির্বাচনের আগে সরকারি দল বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছিলেন এর সপক্ষে কোথাও বলেছেন ক্যাম্পেইন করেছেন। আমরা প্রতিকার যে পেলাম না এতে আমরা না এতে দেশবাসীর তাদের রায়ের প্রতিফলন হলো না মূল্যায়ন হলো না। আমরা বিরোধী দলে বসে এই অবমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না একারণে তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।’ পরে তিনি দলের সকল সদস্য নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার ঘোষণা দেন।

ওয়াকআউটের সময় স্পিকার তাদেরকে সংসদে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের ওয়াকআউট করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আপনি আমার বক্তব্য তো সম্পূর্ণ করতে দিলেন না। আমি আপনার পুরা বক্তব্য শুনেছি। আপনারা ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার কিন্তু আমি বলতে চাই যে আজকে একটু পরে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হবে। সেখানে আমার মনে হয় যে আপনি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সেখানে মন খুলে আপনারা আরও কথা বলতে পারবেন। সুতরাং আমার অনুরোধ হলো আপনারা ওটা শুনেন তারপর যদি ওয়াকআউট করতে পান প্লিজ ফিল ফ্রি। আগে প্রস্তাবটির ভাগ্য কি নির্ধারণ হয় সেটি আপনি দেখার জন্য একটু অপেক্ষা করে দেখতে পারেন। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই সংসদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ফ্লোর নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সংসদীয় সংস্কৃতিতে ওয়াকআউট একটি স্বাভাবিক বিষয়, তবে আলোচনার মাধ্যমেই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে যে কথাগুলো রেকর্ডেড হয়ে গেল তার বিপরীতে আমাদের বক্তব্যটা এক দুই মিনিট রেকর্ডে থাকা ভালো। যে মূলতবি প্রস্তাবটা আপনার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার প্রিসাইড করেছেন উনি গ্রহণ করেছিলেন। তখনই আমি আপত্তি উত্থাপন করেছিলাম যেটা ৬৮ বিধিতে হতে পারে। কিন্তু মূলত প্রস্তাব, যে রুলস অফ প্রসেস আছে তার মধ্যে আপনি রাইটলি আইডেন্টিফাইড করেছেন সেটা আমি আগে উত্থাপন করেছি। যে বিষয়টি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে সেরকম কোন বিষয় মূলতবি প্রস্তাবে আলোচনা করার বিধান নাই। এটা আপনাদের উদারতা, হাউজের অভিভাবক হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে। আপনি আলোচনার জন্য রেখেছেন এবং সেটা দু’ঘন্টা আলোচনার জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু নিষ্পত্তি কি হবে সেজন্য ভোটাভুটি দেওয়ার কোন বিধান নাই। তিনি আরো বলেন, আমরা কোন মূলতবি প্রস্তাব এখানে রিড আউট করি নাই। উনি (বিরোধী দলের নেতা) যেটা বলেছেন সেটা অসত্য বলেছেন, যেটা মূলতবি প্রস্তাব আমিও শুনেছি, আজকে একজন বেসরকারি সদস্য উত্থাপন করতে পারেন। সেটা আপনাকে বিবেচনা করতে হবে। যেহেতু একই বিষয়ে আপনি বিরোধী দলের নেতার একই রকম মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। এজ এ ম্যাটার অফ রাইট বেসরকারি সদস্য সেটা ক্লেইম করতে পারে।