শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে ভিন্নমাত্রা

Published January 31, 2026 by admin

পার্লামেন্টে উচ্চকক্ষ গঠন ও ‘সরকারি’ দলের ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে না পারার কথা উল্লেখ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সরকারি প্রচারে ভিন্নমাত্রা যোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ওপরের সবকিছু পাবেন। ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না।

সম্প্রতি দেশের আলিয়া মাদ্রাসা ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সুপার ও ইবতেদায়ি প্রধানদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় এসব বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত ৪ জানুয়ারি প্রথম ব্যতিক্রমী এমন প্রচারণায় নামে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি আসন্ন গণভোটে শিক্ষার্থীদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসা পর্যায়ে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, ইউজিসির সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি সভায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার প্রচারণা শুরু করা হয় শিশুদের মধ্যে। আর ১৯ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু হয়।

এদিকে ২৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনও ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন। তবে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনার পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া নির্দেশনা বহাল রেখেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

গত ২৬ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় গণভোটে জনসচেতনতা তৈরিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্দেশনা দেওয়া হয় ২৮ জানুয়ারি।

নির্দেশনা

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় সংযুক্ত লিফলেট দুটি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়/নির্বাচন অফিস থেকে সংগ্রহ করে অথবা এক পাতায় উভয় পৃষ্ঠায় মুদ্রণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

ক. গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রচারিত লিফলেটের বক্তব্য ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য কণিকা-৯ এ বর্ণিত তথ্য সংবলিত স্ট্যান্ডিং ব্যানার তৈরি করে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজ নিজ অফিসের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করবেন।

খ. প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নির্বাচন কমিশন থেকে সরবরাহ করা তথ্যাদিযুক্ত ড্রপডাউন ব্যানার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করবেন।

গ. গণভোট বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরি ও ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে গণভোটের উদ্দেশ্য, সময় ও ভোট দেওয়ার নিয়ম তুলে ধরে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ব্যানার/ফেস্টুন/লিফলেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় প্রচারের ব্যবস্থা করবেন।

ঘ. প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অভিভাবক সমাবেশ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অন্যান্য অনুষ্ঠান বা আয়োজনে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সংক্রান্ত বার্তা উপস্থাপন করবেন এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে পরিবারে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে উদ্যোগ নেবেন।

ঙ. প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার ফেসবুক পেজ বা নোটিশ বোর্ডে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক তথ্য প্রচার করবেন।

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ভিন্ন মাত্রার প্রচারণা

লিফলেটে বলা হয়, দেশের চাবি আপনার হাতে, আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে।

সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না।

সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে।

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে।

ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।

দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন-ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।

‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ওপরের সবকিছু পাবেন। ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না।