হাদি হত্যা: প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজন ভারতে গ্রেফতার

Published March 8, 2026 by admin

মাইনুল হোসেন পিন্নু
ইনকিবাল মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ‘প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যে’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার কথা বলেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর।

রোববার (৮ মার্চ) রাতে আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতে গ্রেফতার দুজনকে বাংলাদেশে কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ‘শুরু’ হয়েছে।

এদিন ভারতের সংবাদমাধ্যম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের (এসটিএফ) বিজ্ঞপ্তির বরাতে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে।

প্রায় আড়াই মাস আগে ঢাকার পুলিশ তাদের ভারতে অবস্থানের দাবি করলেও তখন ভারত জোরালোভাবে তা অস্বীকার করেছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ১৬ দিন পর ২৮ ডিসেম্বর এ মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ও আলমগীর ভারতের মেঘালয়ে থাকছেন বলে দাবি করে। এমন দাবির মুখে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সেসময় সাফ জানিয়ে দেয় ফয়সাল তাদের দেশে নেই।

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের কৌশলী গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে’ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামিকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে ৩৭ বছরের রাহুল ওরফে ফয়সাল পটুয়াখালীর বাসিন্দা। ৩৪ বছরের আলমগীর ঢাকার বাসিন্দা।

আইএসপিআরের তথ্য মতে , বিভিন্ন সোর্স থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক ভারত সফরের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।

এসটিএফের বিজ্ঞপ্তির বরাতে রোববার সন্ধ্যায় বার্তা সংস্থা এএনআই’র প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসটিএফ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযানে নামে তারা। দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে পুলিশের কাছে ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে এসটিএফ বলছে, ফয়সাল ও আলমগীর বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যায়। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ‘ফেরার উদ্দেশ্যে’ শেষ পর্যন্ত বনগাঁয় যায়।

এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে জানিয়ে এসটিএফ বলছে, রোববার আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে গুলিবিদ্ধি হন ওসমান হাদি।

ওই সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায় একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে কাছ থেকে হাদির মাথায় গুলি করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের লক্ষ্যে গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। তদন্তকারীদের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছিল। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেন তাকে সহায়তা করেছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই পুরো হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)। ঘটনার পর থেকেই ফয়সাল ও আলমগীরসহ মূল আসামিরা ভারতে পালিয়ে ছিলেন। এখন তাদের গ্রেফতারের ফলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।