সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছালো
ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ ওরফে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমনকে হত্যার ঘটনায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ফের পিছিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এদিন, আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য করলেও তা দিতে পারেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার ইন্সপেক্টর আতিকুল ইসলাম খন্দকার। এর প্রেক্ষিতে বিচারক নতুন দিন ধার্য করেন। পাশাপাশি ১১ আসামির সম্পদ জব্দের আবেদন নথিভুক্ত করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান সালমান শাহ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন নিহতের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি। তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।
সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, তারা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এরপর মামলাটি তদন্ত করে র্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন।

