২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’র দাবিতে নাগরিক ইশতেহার

ঢাকা ট্রায়াল রিপোর্ট: দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে ‘১৪ দফা নাগরিক ইশতেহার’ উপস্থাপন করেছে একশনএইড বাংলাদেশ ও জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি)। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়।

ইশতেহারে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং একটি সমন্বিত ‘জাতীয় জ্বালানি রূপান্তর নীতিমালা’ প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।

ইশতেহারের মূল দাবি

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত ১৪ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

জাতীয় নীতিমালা: জ্বালানি খাতের সংস্কারের জন্য একটি সমন্বিত ‘জাতীয় জ্বালানি রূপান্তর নীতিমালা’ প্রণয়ন করা।

জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহার: ব্যয়বহুল কয়লা ও এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে নবায়নযোগ্য উৎস দ্বারা প্রতিস্থাপন।

খাতভিত্তিক পথনকশা: কেবল বিদ্যুৎ নয়; কৃষি, তৈরি পোশাক ও পরিবহন শিল্পের জন্য ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

বিইআরসি’র স্বাধীনতা: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা।

শুল্ক সুবিধা: নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে আগামী ৫ বছরের জন্য শূন্য শুল্ক সুবিধা প্রদান করা।

সংবাদ সম্মেলনে একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টরফারাহ কবিরের সঞ্চালনায় আইইইএফএ’র লিড অ্যানালিস্ট ও জেটনেট-বিডির উপদেষ্টা সদস্য জনাব শফিকুল আলম বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে একটি পেপার উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “এলএনজি, কয়লা এবং তেলের মত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে যে ঝুঁকিতে ফেলেছে, তা আরও বাড়বে যদি আমরা যথাযথ উদ্যোগ নিতে না পারি।” তিনি সতর্ক করে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরতা দেশের বিদ্যুৎ খাতকে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিতে ফেলছে।

ফারাহ কবির বলেন, “এই রাজনৈতিক দাবিনামা দেশের দেড় শতাধিক সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। ন্যায্য ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের জন্য শক্তিশালী জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ও স্থানীয় দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি তৃণমূল মানুষের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও আইইউবির উপাচার্য ড. ম. তামিম বলেন, “বাংলাদেশকে কোনওভাবেই জ্বালানি সংকট বা দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা প্রয়োজন হলেও, এই রূপান্তর এমন হতে হবে যেন সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত থাকে।”

বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “সৌর ও বায়ু শক্তির ওপর গুরুত্ব দিলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হতে পারবে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।”

জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী জাকির হোসেন খান বৃহৎ প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। তিনি বলেন, “একটি পরিবেশবান্ধব ও স্মার্ট জ্বালানি রূপান্তর নীতিমালা ও পথনকশা এখন জরুরি।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএসআরই-র সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর খসরু মোহাম্মদ সেলিম। অনুষ্ঠানে নেকমের প্রধান নির্বাহী মনজুরুল হান্নান খান, পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন, যুব সংগঠন সুর্যোদয়ের রায়হান নোমান নূরনবীসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাইনুল হোসেন পিন্নু :ঢাকা, (মঙ্গলবার) ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Leave a Reply