পুলিশ হত্যার বিচার-যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ হত্যার বিচারের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে অভ্যুত্থানকারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মত ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ম্যাচাকার করেছে, গণহত্যা করেছে, তারা জনতার প্রতিনিধির মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে, কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে। আর জুলাই যোদ্ধাদেরকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

সোমবার (৩০মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়াতে দাবি করছে যে সমস্ত হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে কিনা এবং তারা বিভিন্ন দাবি করছে। আমি সেই বিষয়ে কেউ আরেকটি অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, তাহলেলে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে, রাজাকার হত্যার বিরুদ্ধে। ১৯৭১ সনে যদি এখন কেউ মামলা নিয়ে আসে। গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে অভ্যুত্থানকারী, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মত ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ম্যাচাকার করেছে, গণহত্যা করেছে, তারা জনতার প্রতিনিধির মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে। সেখানে জুলাই যোদ্ধাদেরকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। সে বিষয়ে আমরা এই অধ্যাদেশটি এখানে গ্রহণ করার জন্য সবাই সর্সম্মত হয়েছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি দেওয়ার বিষয়ে আইনি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। ইনডেমনিটি প্রদানের এই অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একটা জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ নামে একটা অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে এখানে মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, সংসদীয় এই অধ্যাদেশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট প্রণয়ন ও প্রদানের জন্য আগামী দুই তারিখে (২ এপ্রিল) সেখানে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা এই জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশটা পার্লামেন্টে বিল আকার উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে একমত হয়েছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুই-একটা মামলা এবং তার সহযোগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুই-একটা মামলার রায়ও ঘোষিত হয়েছে। সেই রায়গুলো সারাজাতি টেলিভিশনের মাধ্যমে একটা লাইভ টেলিকাস্ট করা হয়েছে। আপনারা দেখেছেন। আশা করি অন্যান্য মামলাতেও ইনশাল্লাহ আইসিটি কোর্ট হোক বা অন্যান্য আদালত হোক আদালত স্বাধীনভাবে তারা করবে। সেখানে আমরা কোনও ইন্টারফেয়ার করবো না, করতে চাই না। এটাই বর্তমান সুশাসনের আইনের শাসনের ব্যবস্থা। এদেশের সকল গুম, খুন, হত্যাকাণ্ড এবং গণহত্যার বিচার হবেই।’

সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় পুলিশ বাহিনীকে সুশৃঙ্খল বাহিনীতে রূপান্তরের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সারাদেশে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘ মেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, মধ্যম মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা এবং স্বল্প মেয়াদি বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের দেশ ও বিদেশে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সংযোজন অব্যাহত আছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

গ্ররুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপরাধ শনাক্তকরণ ও তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সিডিএমএস-এর মাধ্যমে রেকর্ডকৃত মামলা/অপরাধ/অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে যা মামলা তদন্ত কার্যক্রম ও তদন্ত মনিটরিংয়ে সহায়তা করছে। থানায় অনলাইন জিডি ও অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স চালু করা হয়েছে।

Leave a Reply