শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ Breaking News
জর্ডানের চার্চে বন্দুকধারীদের এলোপাথাড়ি গুলি: নিহত ৭, আহত ৪০

জর্ডানের চার্চে বন্দুকধারীদের এলোপাথাড়ি গুলি: নিহত ৭, আহত ৪০

২৪ অক্টোবর ২০২৬ · FEATURED

জর্ডানের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় কারাক প্রদেশের হামুদ চার্চে একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠান চলাকালে একদল বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। দেশটিতে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্য করে এই বিরল ও মর্মান্তিক আক্রমণকে চরমপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছে দেশটির সরকার। খবর রয়টার্স। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আল-মুশাইরফেহ এলাকার চার্চটিতে ঘটে যাওয়া এই হামলায় যুক্ত বন্দুকধারীদের ধরতে জর্ডানজুড়ে ব্যাপক চিরুনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-মামলাকা প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফুটপাত থেকে নিরাপত্তা প্রাচীর ও গাছের আড়ালে লুকিয়ে অন্তত তিনজন বন্দুকধারী চার্চ লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছুড়ছে। এরপর তারা দ্রুত চার্চের প্রবেশপথের দিকে ধাওয়া করে।

ঘটনাস্থলে থাকা খালেদ বুর্কান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শেষকৃত্যে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং হামলাকারীরা বেশ কয়েক মিনিট ধরে তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে চার্চের প্রবেশদ্বারের মেঝেতে রক্তের দাগ দেখা গেছে।

ঘটনার পরপরই কারাক সফর করেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কারাকে এই সন্ত্রাসী হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। যারা মনে করে বুলেটের আঘাতে জর্ডানের জনগণকে বিভক্ত করা যাবে, আমাদের ঐক্যের সামনে তাদের সেই দুরাশা কোনোদিন সফল হবে না। হামলাকারীদের ‘লৌহহস্তে’ দমন করা হবে।’

জর্ডানের পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের প্রধান মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ আল-মাইতাহ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিন আল ফারেহ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাটি চরমপন্থিদের দ্বারা সংঘটিত হলেও এতে কোনও আন্তর্জাতিক বা দেশীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘এটি অন্ধ চরমপন্থা ও সন্ত্রাসী আদর্শের পরিণতি। কোনও অবস্থাতেই আমাদের সমাজকে এই পথ অনুসরণের সুযোগ দেওয়া হবে না।’ 

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সাধারণ নাগরিক এবং প্রার্থনালয়ে এই ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’ এছাড়া জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ একে একটি ‘বর্বর ও ঘৃণ্য আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জর্ডানের মোট জনসংখ্যার একটি ছোট অংশ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তুলনায় তুলনামূলক শান্ত ও স্থিতিশীল হলেও দেশটিতে বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময় ইসলামপন্থি চরমপন্থিদের হামলা নস্যাৎ করার দাবি করে আসছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।