জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী
মাইনুল হোসেন পিন্নু, ব্যাংকক, থাইল্যান্ড।। ঢাকা ট্রায়াল
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে সংকটে রয়েছে বাংলাদেশও। জ্বালানি খাতের এ সংকট মোকাবিলা এবং বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের শুরুতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বৃহৎ ও প্রভাবশালী নীতিনির্ধারণী সভা শুরু হয়েছে আজ। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর থাইল্যান্ড আবারও এ বৈশ্বিক সম্মেলনের আয়োজক দেশ হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় ১৯১টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, উন্নয়ন খাতের নীতিনির্ধারক, বেসরকারি খাতের নির্বাহী, গবেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতাসহ ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তাঁরা সম্মেলনে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সপ্তাহব্যাপী আলোচনা করবেন।
সম্মেলনে অংশ নিতে আসা শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন ও সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম। গত ২২ বছরের মধ্যে এটি কোনো সুইস প্রেসিডেন্টের প্রথম থাইল্যান্ড সফর। বাংলাদেশ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এ চাপ সামাল দিতে একধরনের আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে সহযোগিতার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ভবিষ্যতেও সংস্থাটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা শুধু বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি খাতের সংকটের প্রভাব মোকাবিলায়ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও প্রক্রিয়াগত কাজ চলছে। দুই পক্ষের অংশীদারত্বের আওতায় কীভাবে সহযোগিতা আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান উদ্যোগগুলোর সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, বাড়বে কর আদায়
অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সামনে এনেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে অনিয়ম ও ঋণসংক্রান্ত বিশৃঙ্খলার দায় এখন সাধারণ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে পুনঃঅর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা না গেলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। একই সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, অতীতে কর অব্যাহতি ও করসংক্রান্ত অনিয়মের কারণে রাজস্ব আহরণ কমেছে। এতে সরকারের আর্থিক ঘাটতি বেড়েছে এবং সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সামাজিক সুরক্ষার বলয় সম্প্রসারণ এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শের সঙ্গে সরকারের নিজস্ব অগ্রাধিকারের সমন্বয় ঘটিয়ে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায় বাংলাদেশ।
দারিদ্র্য কমাতে পরিবার কার্ড, বাড়বে সামাজিক সুরক্ষা
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণও সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও আগের সরকারের সময়ে দারিদ্র্য বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবার কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে পাঁচ বছরে দারিদ্র্যের হার প্রায় পাঁচ শতাংশ কমতে পারে। তবে সম্ভাব্য এ ফল নির্ভর করবে কর্মসূচির আওতা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও অর্থায়নের ওপর।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণকে সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বন্ধ কারখানা চালুতে ঋণাত্মক সুদে অর্থায়নের পরিকল্পনা
বন্ধ কলকারখানা চালু এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সাত শতাংশ ঋণাত্মক সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তবে এ অর্থায়নের আওতা, শর্ত, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
উপদেষ্টার মতে, দেশে শিক্ষিত ও তরুণ বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে অনেক কলকারখানা বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উৎপাদন বাড়ানো, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সরকারের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী খাতগুলো সচল করা গেলে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
থাইল্যান্ডের বিনিয়োগে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে নজর
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, থাই চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের কয়েকটি সম্ভাবনাময় খাত তুলে ধরা হয়েছে। কৃষিজাত পণ্য, ফল, দুগ্ধজাত পণ্য ও হালাল খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে থাই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে।
বাংলাদেশে আম, কাঁঠাল ও লিচুর মতো ফলের মৌসুমে সরবরাহ বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে অনেক পণ্য নষ্ট হয়। এতে কৃষকেরা অনেক সময় ন্যায্য দাম পান না। এসব পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি হালাল খাদ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির সুযোগ রয়েছে।
সরকার শুধু দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় না; বরং উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে যৌথ উৎপাদন নেটওয়ার্ক তৈরির সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। এর আওতায় কোনো পণ্যের প্রাথমিক উপকরণ বাংলাদেশে উৎপাদিত হতে পারে, মধ্যবর্তী পণ্য থাইল্যান্ডে তৈরি হতে পারে এবং পরে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন ও রফতানি করা যেতে পারে। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এর বিপরীত ব্যবস্থাও গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম-রেনং সমুদ্র যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ও থাইল্যান্ডের রেনং বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ সংযোগ আরও গতিশীল করা গেলে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) কাঠামোর সুবিধা কাজে লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শুল্কসুবিধা কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রফতানির সুযোগ বাড়তে পারে।
কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, সামুদ্রিক যোগাযোগ এবং বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ আহরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে থাইল্যান্ডের আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগেও প্রত্যাশা
অর্থায়নের জন্য শুধু বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী উৎস কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি জানান, চীনের বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। জাপানের টয়োটা ও মারুবেনি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশ সফর করেছে। এ ছাড়া সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক প্লাগ অ্যান্ড প্লে এবং প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
উপদেষ্টার দাবি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত ধারাবাহিকতার প্রত্যাশা থেকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণকে সমন্বিত করে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন এগিয়ে নেওয়া।
তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা বাড়ছে। এডিবি ইতিমধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংস্কারে সরকারের মালিকানা, বাস্তবায়নই বড় পরীক্ষা
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও দ্রুত পুনর্গঠনের জন্য সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে এ কৌশলের বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে মিল রয়েছে। তবে সংস্কারের মূল দায়িত্ব ও মালিকানা সরকারেরই থাকবে।
সরকারের প্রত্যাশা, নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে সংস্কার কর্মসূচি টেকসই করা সম্ভব হবে। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে অর্থায়ন নিশ্চিত করা, সংস্কার বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাস্তব অগ্রগতির ওপর।
বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি ব্যয় সামাল দেওয়া, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো, রাজস্ব আয় বাড়ানো ও বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে নীতিগত ঐকমত্য এবং থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে সরকার কতটা দ্রুত বাস্তব ফল আনতে পারে, এখন সেদিকেই নজর অর্থনৈতিক মহলের।